বর্তমান ফুটবল বিশ্বে সবুজ গালিচায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। একের পর এক ম্যাচে তার অসাধারণ নৈপুণ্য তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে রেখেছে। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির মুখোমুখি হওয়ার আগে ইয়ামালের ফর্ম নিয়ে ব্যাপক চর্চা চলছে। তবে এই স্প্যানিশ ফুটবলারকে নিয়ে মোটেও ভীত নন পিএসজির অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া। ১৯ বছর বয়সী ইয়ামালকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, তাকে আলাদা করে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না এই পর্তুগিজ ফুটবলার।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১১টি ম্যাচে ৯টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন ইয়ামাল। এছাড়া লা লিগায় ১১০ ম্যাচে ৩৮ গোল ও ৪০টি অ্যাসিস্ট এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৩৫টি ম্যাচে ১২টি গোল ও ১৪টি অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড রয়েছে তার। শুধু ক্লাব ফুটবলে নয়, স্পেনের ২০২৪ ইউরো এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিত করতেও ইয়ামালের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। গত দুটি মৌসুমে বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা জয়ের পেছনেও তার অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো।

মঙ্গলবার প্যারিসে বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে পিএসজি। ম্যাচের আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালের প্রতি ভয়ের কথা জানতে চাওয়া হলে ভিতিনিয়া স্পষ্টভাবে জানান, তিনি ইয়ামালকে ভয় পান না। তার মতে, ইয়ামাল অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলছেন এবং তার মতো খেলোয়াড়ের বিপক্ষে লড়াই করা বেশ উপভোগ্য। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, পিএসজি কেবল একজন বিশেষ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে নয়, বরং বার্সেলোনার মতো একটি শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হবে।

চলতি মৌসুমে বার্সেলোনা দল হিসেবেও অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে রদ্রি এবং পেদ্রির মতো বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডাররা তাদের আক্রমণের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন। এই দুই তারকা মিডফিল্ডারের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বৈরথ নিয়ে বিশেষ কিছু না বললেও, বার্সেলোনার বিপক্ষে কার্যকর কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন ভিতিনিয়া। তিনি জানান, প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মাথায় রেখে মাঠে নামার সেরা উপায়টি তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

ভিতিনিয়ার বিশ্বাস, এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে উভয় দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। যার ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে কোনো এক দলের হাতে থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তার মতে, দুই দলই বল পজিশন ধরে রাখতে এবং ক্রমাগত চাপ তৈরি করতে চাইবে, যা ম্যাচটিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে। মাঠের লড়াইয়ে দুটি দুর্দান্ত দলের সংঘাত দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।