বেগম খালেদা জিয়া নারী আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের শক্তিশালী আক্রমণের সামনে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়ল বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৪৭-১৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে ভারত এবং তারা ফাইনালে পৌঁছে গেছে। খেলার প্রথমার্ধেই ভারতের দাপটে ২৪ গোল হজম করে বাংলাদেশ, যেখানে পাল্টা জবাব দিতে পেরেছে মাত্র ৮ গোলে। বিরতির পর লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আসেনি।
ভারতীয় দলের ভাওয়ানা একাই ১৩টি গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের গোলকিপার সুমাইয়া আক্তার পোস্টের নিচে ভারতের আক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খেয়েছেন। ম্যাচ শেষে সুমাইয়া আক্তার আক্ষেপ করে জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়া বাংলাদেশের হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। ২০১৯ সালের এসএ গেমসের পর সিনিয়র পর্যায়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ খুব একটা আসেনি। তার মতে, নিয়মিত টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেলে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের সাথে ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব হতো এবং সেই মানের প্রস্তুতি প্রয়োজন ছিল।
দুই দলের মধ্যকার এই বিশাল ব্যবধানকে প্রস্তুতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পার্থক্য হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ দলের কোচ আনা আলোনসো। তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, শারীরিক সক্ষমতা এবং হ্যান্ডবল খেলার কারিগরি দক্ষতায় বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। কোচের মতে, এই ঘাটতিগুলো কেবল কয়েক মাসের ট্রেনিং ক্যাম্পের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব নয়। খেলোয়াড়দের সারা বছর ফিটনেস ধরে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং ক্যাম্পের বাইরেও নিজস্ব প্রচেষ্টায় নিজেকে প্রস্তুত রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
নেপালকে পরাজিত করে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও ভারতের কাছে এমন বড় পরাজয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ দল। তবে টুর্নামেন্টে এখনো আশা বাকি আছে। আগামীকাল মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে জয়লাভ করতে পারলে স্বাগতিক বাংলাদেশ আবারও ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাবে।




