স্থাপত্যকলার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের বিশেষ অবস্থান তৈরি করল বাংলাদেশ। দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) ২০২৬ সালের জন্য তাদের মর্যাদাপূর্ণ রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ-এর সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় স্থান পাওয়া মোট চারটি প্রকল্পের মধ্যে দুটিই বাংলাদেশের। নির্বাচিত দেশি প্রকল্প দুটি হলো ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস এবং রংপুরে অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি। এছাড়া বেলজিয়ামের রয়্যাল বেলজ ও জেড৩৩ নামক আরও দুটি প্রকল্প এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। রিবা-র পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পগুলো মূলত এই বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছে যে, কীভাবে সৃজনশীল ও চিন্তাশীল নকশার মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং পরিবর্তনশীল জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এর অনন্য স্থাপত্যশৈলীকে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ভেতরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রচুর সবুজায়ন এবং পরিবেশবান্ধব নকশার মাধ্যমে এখানে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের পরিসর এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন এবং জনজীবনের সমন্বয়ে এই স্থাপত্যটি দেখিয়েছে যে, কীভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহরের সামগ্রিক পুনরুজ্জীবনে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরিকে শুধু একটি শিল্পকারখানা হিসেবে নয়, বরং কর্মীদের সুস্থতা ও সামাজিক মেলবন্ধনের কেন্দ্র হিসেবে নকশা করা হয়েছে। এই কারখানায় প্রাকৃতিকভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার ফলে কর্মীরা বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারেন। প্রচুর প্রাকৃতিক আলো এবং বাতাসের প্রবাহের সঠিক ব্যবহারের ফলে এখানে যান্ত্রিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া কর্মীদের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য বিশেষ জায়গা রাখা হয়েছে। কর্মীদের অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক-মানসিক সুস্থতাকে প্রাধান্য দিয়ে এই শিল্পস্থাপত্যটি তৈরি করা হয়েছে, যা শহরের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য যে, প্রতি দুই বছর অন্তর এই বিশেষ পুরস্কারটি প্রদান করা হয় এবং এবার এটি পঞ্চমবারের মতো দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর চূড়ান্ত বিজয়ী প্রকল্পের নাম ঘোষণা করা হবে।




