বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর (পিপি) শব্দচয়ন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের দাবি, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তার বক্তব্যে অত্যন্ত ‘অশালীন’ ও ‘আপত্তিকর’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা একজন দায়িত্বশীল পদের ব্যক্তির জন্য একেবারেই অনুচিত। শনিবার দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়ার কথা জানান।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার সকালে, যখন মদিনা থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ওমরাহ পালনকারীদের জন্য জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব ঘটে। এই বিলম্বের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান রঞ্জনের উচ্চবাচ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে তাকে বিমানবন্দরের ইউডি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, “ঘাড় ধরে বের করে দেব... আপনারা কাজ করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?”

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ভোরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শনিবার আদালত এই মামলায় আখতারুজ্জামানকে একদিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিং চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এই মামলা ও অভিযুক্তের আচরণ নিয়ে কথা বলেন। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রতিবাদ করা অন্যায় নয়, তবে প্রতিবাদের ধরন যদি অপরাধের পর্যায়ে চলে যায়, তবে তা আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদকে ‘অপরাধমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেন।

বিতর্ক তৈরি হয় যখন ওমর ফারুক ফারুকী আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, কিছু মানুষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে যারা মূলত ‘বাতিল মাল’ এবং তারা সরকার ও মানুষকে গালাগাল ও উশৃঙ্খল কথা বলা ছাড়া আর কিছুই করে না।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাতে জামায়াতে ইসলামী তাদের বিবৃতিতে জানায়, আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং দেশের একজন সম্মানিত নাগরিক। তার সম্পর্কে সাংবাদিকদের সামনে এমন অশালীন ভাষা ব্যবহার করে পিপি নিজের পেশাগত অবস্থান এবং দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। উল্লেখ্য, আখতারুজ্জামান রঞ্জন স্থানীয়ভাবে মেজর রঞ্জন নামে পরিচিত। তিনি বিএনপি থেকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্যের কারণে বিএনপি তাকে তিন দফা বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর তিনি প্রাথমিক সহযোগী সদস্য হিসেবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।