ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পুনরায় গোপন বোঝাপড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ফেনীর ফুলগাজীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, 'গুপ্ত' ও 'স্বৈরাচারী' শক্তিগুলো আবারও একজোট হয়েছে। অতীতে ১৯৯১, ১৯৮৬ এবং সর্বশেষ নির্বাচনের সময়েও এই দুই পক্ষের গোপন সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি জনগণকে তাদের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।

ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্মানি প্রদান করা হয়। সেখানে তারেক রহমান জুলাই পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, স্বৈরাচাররা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে কিছু বিশেষ গোষ্ঠী বা 'গুপ্তবাহিনী' আপত্তি করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, যারা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে এবং যাদের কাছে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই, তারা পুনরায় দায়িত্ব পেলে জনগণের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে না। কারণ তারা আজ পর্যন্ত জনকল্যাণের কোনো কর্মসূচি উপস্থাপন করতে পারেনি।

দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংকটে মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষা করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষ আবারও স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে এনেছে। গত ১৭ বছরের শাসনব্যবস্থায় গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কোনো উন্নতি হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত থাকলে তবেই দেশের প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব। 'করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'—এই স্লোগানের আওতায় ২০ কোটি কর্মক্ষম মানুষকে ৪০ কোটিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে তিনি দেশ গড়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি শুনে তিনি জানান, গণতন্ত্র বজায় থাকলে তরুণদের এই দাবি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। যারা গণতন্ত্রের শত্রু, তাদের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া সোনাগাজীর ডাকবাংলোতে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।