মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে। তবে মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি তাঁর এখতিয়ারের বাইরের বিষয় এবং এই বিষয়ে স্পিকার বা দলীয় প্রধান যথাযথ তথ্য দিতে পারবেন।

তদন্ত প্রক্রিয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, দলীয় ব্যবস্থা এবং আইনি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা। সাংগঠনিক পদক্ষেপ দলের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে, আর আইনি প্রক্রিয়ায় চার্জশিট হলে বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে যাবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সংসদ সদস্য সম্পর্কে মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে প্রায় দুইশ লোক দেশীয় অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালায়। ১৯৭৪ সাল থেকে দরিদ্র মা ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এই কেন্দ্রে একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড কক্ষ, ল্যাবরেটরি ও টিকা কক্ষসহ পাঁচটি কক্ষের জানালা-দরজা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা সেখান থেকে আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, এসি এবং ওষুধসামগ্রিসহ কোটি টাকার বেশি সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, লুটপাটের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়।

শাহ আলী থানায় দায়ের করা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়া এবং আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, ২০০৬ সালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং তিনি ওই জমিটি সমিতির নামে বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছিলেন। যদিও মিষ্টি দাবি করেছেন যে, বর্তমানে ওই সমিতির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং প্রয়াত নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর ছোট বোন মিষ্টির বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ নিশ্চিত করেছেন। এর পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিসহ যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।