সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে, যার ফলে রুশ আর্টিলারি ইউনিটগুলোকে ক্রমাগত পিছু হটতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্মুখ সারিতে কৌশলগত ক্ষমতা ধরে রাখতে রাশিয়া এখন মূলত এফপিভি (ফার্স্ট-পারসন ভিউ) ড্রোনের উপর নির্ভর করছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পরিধি বাড়ার কারণে প্রচলিত আর্টিলারি ও ট্যাংক ব্যবহারের খরচ ও ঝুঁকি উভয়ই বেড়ে গেছে। ফলে রাশিয়া তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনে আর্টিলারি ও ট্যাংকের বদলে গণহারে এফপিভি ড্রোন ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। এই ড্রোনগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে বেশি কার্যকারিতা দেখাতে পারে।
এফপিভি ড্রোনের ব্যবহার রুশ বাহিনীকে সম্মুখযুদ্ধে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হচ্ছে, রাশিয়ার পক্ষে ঐতিহ্যবাহী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা ততই কঠিন হয়ে উঠছে। তাই রাশিয়া এখন ক্ষুদ্র ও চটপটে ড্রোনের মাধ্যমে কৌশলগত আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
এই পরিবর্তন যুদ্ধের গতি ও প্রকৃতি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি। সংঘাতের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে ড্রোন যুদ্ধ আরও তীব্র হবে এবং উভয় পক্ষই এই প্রযুক্তির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।


