জাম্বিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা ব্রায়ান মুন্ডুবিলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে থাকার মধ্যে এই ঘোষণা এল।
গত বৃহস্পতিবার মুন্ডুবিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীর এক প্রাণঘাতী অভিযানের পর তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। দেশটির সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাকাইনদে হিচিলেমা দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হওয়ার পর ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুন্ডুবিল।
এরপর কর্তৃপক্ষ মুন্ডুবিলের দল এনআরপিইউপিকে সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনার অভিযোগে অভিযুক্ত করে। তবে দলটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবার রাতে মুন্ডুবিলের আইনজীবী মিলনার কাটোলো ঘোষণা করেন যে তার মক্কেলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। জাম্বিয়ান আই নামের একটি সংবাদমাধ্যমকে কাটোলো জানান, আদালতে এই অভিযোগের জবাব দিতে মুখিয়ে আছেন বিরোধী দলীয় নেতা।
আইনজীবী আরও জানান, মুন্ডুবিলের সহপ্রার্থী মেকেবি জুলুসহ আরও ১৭ জনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনা হয়েছে।
সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মুন্ডুবিল ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, আর হিচিলেমা পেয়েছিলেন ৬০ শতাংশ।
ভোটের পরদিন রাজধানী লুসাকায় মুন্ডুবিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সম্পত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। ওই অভিযানে এক সাবেক মন্ত্রী নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই অভিযানের পর মুন্ডুবিল ও জুলু শহরের একটি জাতিসংঘ ভবনে আশ্রয় নেন। প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের ওপর চাপ প্রয়োগ করার পর তাদের আটক করা হয়।
নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি বিরোধী দল। কারণ সোমবার ছিল মামলা দায়েরের শেষ দিন, আর ওই দিন কর্তৃপক্ষ আদালতগুলো সিলগালা করে রেখেছিল।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে হিচিলেমার।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের দিনটিকে মূলত শান্তিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে জাম্বিয়ার মানবাধিকার কমিশন নির্বাচন-পরবর্তী গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা অভিযানের পর যাদের অবস্থান জানা যাচ্ছে না, তাদের বিষয়ে জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছে।



