রাজশাহীর বাগমারায় খাসপুকুর দখল ও মাছ চাষে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা এবং যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মীদের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে। ভবানীগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁর ভাড়া নেওয়া পুকুরটি দখল করে নিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিকার এবং পুকুরটি দখলমুক্ত করার দাবিতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সাথে নিয়ে বাগমারা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
নাজমুল হোসেনের দেওয়া লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোয়াবাড়ী এলাকার ৩৮ শতকের একটি খাসপুকুর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে 'কসবা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি' ইজারা নিয়েছিল। ওই সমিতির কাছ থেকে পুকুরটি ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন নাজমুল। তবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভবানীগঞ্জ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব ডি এম শাহিন, বাগমারা উপজেলা যুবদলের কার্যকরী কমিটির সদস্য শাকিল হোসেন এবং কর্মী সাইদুর রহমান পুকুরটি নিজেদের দখলে নিয়ে মাছ ছাড়েন এবং নাজমুলকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতার দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয় পক্ষকে তলব করে শুনানি করেন। শুনানির পর পুকুরটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সাইদুর রহমান লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি আর ওই পুকুরে যাবেন না। তবে অভিযোগ উঠেছে, লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি দখল ছাড়েননি এবং বরং অন্য নেতাদের প্ররোচনায় নাজমুলকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তিনি মাছ চাষ করতে পারছেন না এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
অন্যদিকে, এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন ডি এম শাহিন, শাকিল হোসেন ও সাইদুর রহমান। তাঁদের সাথে আরও কয়েকজন যুবদল ও ছাত্রদল কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্তরা দাবি করেন, পুকুরটি আগে থেকেই সাইদুর রহমানের দখলে ছিল এবং তিনি সেটি পুনরায় ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। নাজমুল হোসেনের তোলা ভয়ভীতি বা হুমকির অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তারা জানান। ডি এম শাহিনের মতে, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই পুরো বিষয়ে বাগমারার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, পুকুরটি প্রকৃতপক্ষে 'কসবা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি'র নামে ইজারা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর শুনানি করা হয়েছিল এবং সাইদুর রহমান পুকুরে আর না যাওয়ার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনগুলোর বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।




