রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নাচ, গান এবং লোককাহিনির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো ওরাঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘কারাম পূজা’। সমৃদ্ধি, সুখ-শান্তি এবং কৃষি ফলনের প্রত্যাশায় আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী উৎসবটি শুরু হয় শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে। শনিবার সন্ধ্যায় কারাম গাছের ডাল বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশ ওঁরাও কালচারাল ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রণিকান্ত তিকী জানান, উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকালে ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যার পর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। আয়োজকদের মতে, ওরাঁও সম্প্রদায়ের কাছে কারাম গাছ পবিত্রতা ও মঙ্গলের প্রতীক এবং বংশপরম্পরায় আশ্বিন মাসের শুরুতেই তারা এই উৎসব পালন করেন। তাদের বিশ্বাস, এই পূজার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরা ও বন্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং এর ফলে পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক মঙ্গল নিশ্চিত হয়।
উৎসবের নিয়ম অনুযায়ী, ওরাঁও সম্প্রদায়ের সদস্যরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। এরপর আনন্দঘন পরিবেশে নেচে-গেয়ে কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে তা পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয়। এরপর শুরু হয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সংগীত ও লোককাহিনির পরিবেশনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ছবি বীর জানান, সমতলের আদিবাসীরা প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসে এই উৎসব উদযাপন করায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। রণিকান্ত তিকী উল্লেখ করেন যে, প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য এবং বর্তমানে সমতলভূমির আদিবাসীদের মাঝে এই উৎসব পালনের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭২ বছর বয়সী লালু সরদার বলেন, পরিবার ও সম্প্রদায়ের কল্যাণের জন্য কারাম পূজা তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব।
উৎসবের আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি ওরাঁও সম্প্রদায়ের মানুষকে আধুনিক শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন যে, সন্তানদের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে, অন্যথায় তারা পিছিয়ে পড়বে। তিনি তাদের নিজেদের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হতে এবং নিজেদের যোগ্যতাকে তুলে ধরে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।




