রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার দুপুরবেলা থেকে নিখোঁজ ছিলেন চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহান (১৯), যিনি রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়ির নিকটবর্তী একটি ডোবা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের সময় ফুয়াদের ফোনে একটি কল আসে এবং এরপরই তিনি দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বিকেল চারটা পর্যন্ত তাঁর কথা ফিরতে দেরি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড ও বাটন ফোন দুটিতেই কল করেন, কিন্তু ফোন দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েও কোনো হদিস না মেলায় মঙ্গলবার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি ডোবায় একটি বস্তা ভাসতে দেখেন। বস্তাটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ হলে তাঁরা লাঠি দিয়ে ধাক্কা দেন, যার ফলে বস্তার ভেতর থেকে মানুষের পা বেরিয়ে আসে। দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং রাত আটটার দিকে পুলিশ তা ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনাটি তদন্ত করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মুনির হোসেন। তিনি জানান, ফুয়াদের মরদেহটি একটি বস্তায় ভরে তার সাথে মাটি ভর্তি আরও একটি বস্তা বেঁধে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। মরদেহটি ফুলে উঠার কারণে বস্তাটি পানির উপরিভাগে ভেসে ওঠে, যা স্থানীয়দের নজরে পড়ে। পুলিশ সুপার আরও জানান, ৫ অক্টোবর থেকে ফুয়াদ নিখোঁজ ছিলেন এবং তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। ফুয়াদের ব্যবহৃত ফোনের কল রেকর্ড, পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব, প্রেমঘটিত কোনো সমস্যা কিংবা বন্ধুদের সাথে বিরোধ ছিল কি না—সেসব বিষয় গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে হত্যার কারণ বলা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং জানান যে পুলিশের একাধিক দল এই রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, নিহত ফুয়াদ হাসান ছিলেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম রোকন উদ্দিন চৌধুরীর নাতি এবং বর্তমান জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলামের ফুফাতো ভাই।




