চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় একটি মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৫২ জন আসামিকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। বুধবার চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ এই রায় প্রদান করেন। মামলার মোট ৫৩ জন আসামির মধ্যে মাত্র একজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) মোহাম্মদ আলী জানান, রাজন নামক এক আসামি ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড লাভ করেছেন, আর বাকি ৫২ জন খালাস পেয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে। তৎকালীন সময়ে কুমিল্লার দর্পণ সংঘের পূজামণ্ডপে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ উঠলে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর এলাকায় অবস্থিত শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায়। অভিযোগ ছিল, হামলাকারীরা মন্দিরের প্রতিমা ভেঙে ফেলে এবং পূজার সামগ্রী ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এছাড়া মন্দিরের দানবাক্সে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া এবং ভক্তদের মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল। এই ঘটনার পর মন্দির কমিটির সভাপতি পাপন চন্দ্র সাহা হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক মামলায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও পুলিশ তদন্ত শেষে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
প্রায় পাঁচ বছর পর আসা এই রায়ের বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহি দাস বণিক জানান, আদালতের দেওয়া রায়ের বিষয়ে তাদের কোনো আলাদা বক্তব্য নেই। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীর রাতে কুমিল্লার নানুয়ারদিঘির উত্তরপাড়ে শুরু হওয়া উত্তেজনার ফলে কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং চাঁদপুর জেলাজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় মন্দির-মণ্ডপে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কুমিল্লায় ১২টি, নোয়াখালীতে ৩২টি এবং চাঁদপুরে ১০টিসহ মোট ৫৪টি মামলা করা হয়েছিল। রামপুরের মন্দিরে হামলার মামলাটি ছিল সেই সময়কার চাঁদপুর জেলার অন্যতম একটি মামলা।




