রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস এবং মুগ্ধ দাসের ডিএনএ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বেশ কিছু আলামতের সঙ্গে মিলে গেছে। রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাব থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত খেজুরের বীজ, কামড় দেওয়া শসার টুকরো এবং সিগারেটের ফিল্টারে পাওয়া জৈবিক নমুনার সাথে আসামিদের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এতে গণপতি চক্রবর্তীর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, কলেজছাত্রী কন্যা আগামী এবং ১২ বছর বয়সী পুত্র আয়ুশ নিহত হন। ঘটনার পর গণপতি চক্রবর্তীর শয়নকক্ষ থেকে খেজুরের বিচি, আংশিক খাওয়া শসা এবং সিগারেটের মুড়া উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, নানরুটি, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশুর খাতায় লেখা একটি বার্তা সহ মোট ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রমাণের সন্ধানে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং ২১ সেপ্টেম্বর সিআইডি কার্যালয়ে তাঁদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ঘটনার পর নিহতদের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর করা মামলার প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। শুরুতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এই মামলার তদন্ত করলেও পরবর্তীতে এর দায়িত্ব দেওয়া হয় রংপুর ডিবি পুলিশের হাতে।