মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের যে ত্যাগ ও অবদান রয়েছে, জাতি তা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাই তাঁদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সঠিক তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া অপরিহার্য। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সকলকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে। উক্ত বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও দাবিগুলো রাষ্ট্রপতির সামনে উপস্থাপন করেন, যা গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।
একই দিনে বঙ্গভবনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই আলোচনায় রাষ্ট্রপতি উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও কেন দেশের কৌশলগত স্থাপনা, বন্দর এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে হয়, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি দক্ষ কর্মী তৈরির আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন তিনি। এই সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীর মাঝে বিজয়ীদের এই সাফল্যকে জাতির জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া, হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শেখ মো. মাহমুদুল হাসান ও হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদসহ বিজয়ীরা এই সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন। সামগ্রিক কর্মসূচিগুলোতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন, সচিব এজেএম সালাহউদ্দিন নাগরী এবং প্রেস সচিব সরওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।




