স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের এক সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে জাতীয়করণ করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিগত বা আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী ভিন্ন কথা বলেছিলেন। সে সময় তার ভাষ্য ছিল, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী কোনো লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে থাকা ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও ‘খ’ অনুযায়ী শিক্ষকদের পদকে লাভজনক হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই যুক্তিতে তিনি মনে করেছিলেন, স্থানীয় সরকার আইন ও এমপিও নীতিমালার সংঘাতের কারণে শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তৎকালীন বক্তব্যে তিনি আরও বলেছিলেন, আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞায় সরকারি বেতন-ভাতার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিও অন্তর্ভুক্ত, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে থাকা উচিত।

তবে বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে সেই পূর্ববর্তী বক্তব্যের বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পদমর্যাদা ও জীবনমানের উন্নতির জন্য জাতীয়করণ অনিবার্য এবং তা হবেই। তিনি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, দেশের ইতিহাসে শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও পেনশনের উন্নয়ন হয়েছে। সেই ধারা বজায় রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি পূরণ হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয়করণের আর্থিক দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জাতীয়করণ করতে হলে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যদি সুশৃঙ্খলভাবে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে জাতীয় সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, তবে বর্তমান সরকার অবশ্যই সেই দাবির গুরুত্ব বিবেচনা করবে।

উক্ত সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।