সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রবর্তিত 'বাংলাদেশি' পরিচয়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, যা নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে বলে মনে করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গণমাধ্যমের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অনেকে 'বাঙালি' পরিচয়ের দোহাই দিয়ে 'বাংলাদেশি' জাতীয়তাবাদের সমালোচনা করেন, তবে তাঁর মতে এটি বুদ্ধি ও বিবেকের অভাব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পরিচয়ের মাধ্যমেই পাহাড় এবং সমতলের সকল মানুষকে একত্রিত করে জাতির শক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছিল। বিভিন্ন জাতিসত্তাকে একীভূত করার মাধ্যমেই এই সামগ্রিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশের নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ৫০টিরও বেশি জাতিসত্তা রয়েছে। তিনি তাঁদের 'ক্ষুদ্র' হিসেবে অভিহিত করতে নারাজ। প্রতিটি জাতিসত্তার ভাষা, পোশাক এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও তিনি একটি সামগ্রিক জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যক্ত করেন।

পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরের শিক্ষাব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী শিক্ষামন্ত্রী নির্দিষ্ট পাশের হার (যেমন ৯৮ শতাংশ) নির্ধারণ করে দিতেন, যার ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের সুযোগ ছিল না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তর থেকে শুরু করে সারাদেশে সাংস্কৃতিক আলোচনা সভা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। উক্ত অনুষ্ঠানে আ ন ম এহছানুল হক মিলনও তার বক্তব্য প্রদান করেন।