জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষার দাবিতে জোরালো বক্তব্য উঠে আসে। বক্তারা বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর গড়ে তুলতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সংশোধনের মাধ্যমে উক্ত সহিংসতার স্পষ্ট সংজ্ঞা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর প্রতিকারের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন এনসিপির ইনজামুল হক ও ছাত্রদলের নাসরিন রহমান পপি। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়রা চন্দ্রা চাকমা। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা বক্তব্য রাখেন। দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি–দলীয় সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন এবং স্বতন্ত্র জোটের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই। এ ছাড়া ম্যাফের সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক শাহীনূর নার্গিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।

ম্যাফ উত্থাপিত ছয় দফার মধ্যে রয়েছে—প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও ‘সম্মতি’র আইনি সংজ্ঞা নির্দিষ্টকরণ; নতুন ধরনের ডিজিটাল সহিংসতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বিধান যোগ; নিরাপদ ও সহজলভ্য অভিযোগব্যবস্থা চালু এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা; ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা; ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ; এবং ক্ষতিপূরণসহ দ্রুত ও কার্যকর আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা করা।

বক্তারা আরও মন্তব্য করেন যে, আইনের সংশোধনের পাশাপাশি এর সঠিক প্রয়োগ ও ভুক্তভোগীদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল জগতে নারীসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।