জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক নৃশংস ছিনতাইয়ের ঘটনায় বগুড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁদের সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারকৃতদের পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হলেও কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

গত ২৯ আগস্ট ভোরে কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল থেকে রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকার দক্ষিণ প্লাজার সামনে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছিনতাইকারী রনজিলা পারভিনের ব্যাগ টান দেয়। এতে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসকের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এই ঘটনায় রনজিলার স্বামী আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে, ওই ব্যাগে দুটি মোবাইল ফোন এবং ১০ হাজার টাকা ছিল, যা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর ৩০ আগস্ট র‍্যাব মোশাররফ হোসেন পনি, সেড্রিক জুলিয়ান এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তবে এই গ্রেপ্তারি এবং উদ্ধার করা মোটরসাইকেল নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নীল রঙের দেখা গেলেও, র‍্যাব যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে তা রুপালি ও কালো রঙের। এছাড়া মোটরসাইকেলটির মালিক রাকিব হোসেনের স্ত্রী সুমাইয়া ইসলাম দাবি করেছেন, ঘটনার সময় গাড়িটি তাঁদের বাসার গ্যারেজেই ছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজে সেটি প্রমাণিত হলেও পুলিশ ও র‍্যাব তা আমলে নেয়নি।

গ্রেপ্তারের স্থান নিয়েও তথ্যের গরমিল পাওয়া গেছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে আসামিদের রাস্তা থেকে ধরা হয়েছে, কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে পনিকে ধরা হয়েছে একটি ফ্ল্যাট থেকে এবং সেড্রিককে তাঁর নিজের বাসা থেকে। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো চলছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহিন স্বীকার করেছেন যে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জড়িত থাকার সঠিক প্রমাণ এখনো মেলেনি। তা সত্ত্বেও ৫ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে মামলার বাদী আবদুল মতিন জানিয়েছেন, পুলিশ তাঁকে তদন্তের কোনো অগ্রগতি জানায়নি এবং তিনি কেবল গণমাধ্যমের খবরের ওপর ভিত্তি করে সব জানতে পারছেন। পুলিশ ও র‍্যাব আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখলেও এখন পর্যন্ত নতুন কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।