লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজের তিন দিন পর এক ইউপি সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় দুল্যাতলী ইউনিয়নের মেম্বারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই পাহাড়ের ধারে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ৪৮ বছর বয়সী সাধন রঞ্জন চাকমার লাশ। তিনি দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। ভারত মোহন চাকমার ছেলে সাধন রঞ্জন ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাত থেকে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে সাধন রঞ্জন চাকমা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা। খবর পেয়ে লক্ষ্মীছড়ি থানার পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে তল্লাশি শুরু করে। সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ির অদূরে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান তাঁরা।
লক্ষ্মীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গলায় একটি দাগ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। রাতেই মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সাধন রঞ্জন চাকমার ছেলে হেমন্ত চাকমা বাদী হয়ে লক্ষ্মীছড়ি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার সাথে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ কোনো মন্তব্য করেনি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা — তা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও ময়নাতদন্তের পরই পরিষ্কার ধারণা মিলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।




