তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় বৈঠক আগামী সোমবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশের মাধ্যমে এই সভার সময় ঘোষণা করা হয়েছে। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সভার মূল আলোচ্য বিষয় হবে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পৃথকভাবে মজুরি প্রস্তাব গ্রহণ করা এবং পরবর্তীতে মজুরি হারের সুপারিশ প্রণয়নে বিস্তারিত আলোচনা করা।
শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ১ নভেম্বর এই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। এই বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সুবহানী। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এছাড়া মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত প্রথম সভার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা জানান, আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা বর্ধিত বেতন পাবেন। তবে আগামী সোমবারের সভায় শ্রমিকপক্ষ তাদের প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিলেও মালিকপক্ষ তা দিতে পারে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, বর্তমান শ্রম পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা ব্যস্ত থাকায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মজুরি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত দ্বিতীয় সভায় মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং চেয়ারম্যানের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব পেশ করে।
অন্যদিকে, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানিয়েছেন, বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা প্রাথমিক মজুরি প্রস্তাব প্রস্তুত করছেন, যা আগামী সোমবার জমা দেওয়া হবে। তবে মজুরির বিস্তারিত কাঠামো পরবর্তীতে পেশ করা হতে পারে। এছাড়া শ্রম আইনের জটিলতা মোকাবিলায় শ্রমিকপক্ষের অনুরোধে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকেই আলোচনায় দুজন করে বিশেষজ্ঞ রাখার অনুমতি দিয়েছেন, যা আগামী সভা থেকে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাক শিল্পে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হয়েছিল। সেই সময়ে মজুরি বোর্ড গঠিত হওয়ার পর খসড়া চূড়ান্ত করতে সদস্যদের প্রায় সাত মাস সময় লেগেছিল।




