বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী '৩০তম ইউএস ট্রেড শো'। আড়াই বছর পর আয়োজিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। প্রদর্শনীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, জ্বালানি, প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য এবং নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির অধীনে ১৯টি সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স এবং মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী সমন্বিত পণ্য পরিবহন কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব, যেখানে মার্কিন মূলধন ও দক্ষতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

জ্বালানি খাতের কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ভোলায় সাত ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত এবং বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথ বিনিয়োগ ও পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশ একটি তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতে পারে, তাই এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তার বক্তব্যে বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ দেশের শিল্প খাতের দক্ষতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ প্রকাশ করেন। অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল জানান, গত তিন দশক ধরে এই ট্রেড শো দুই দেশের বাজারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনে নারী নেতৃত্ব বিষয়ে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। তবে আইএলওর ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৩৮.৬ শতাংশ, যা বৃদ্ধির প্রয়োজন। বাল্যবিবাহ এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাব নারীর অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। নারীর আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মতো উদ্যোগগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে এই সেমিনারে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপরাষ্ট্রদূতসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।