প্যারাগুয়ের রাষ্ট্রপ্রধান সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। সম্প্রতি উয়েনো ব্যাংকের পতনের ফলে সৃষ্ট চরম অস্থিতিশীলতার মুখে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের কিছু মুহূর্ত আগেই দেশটির আইনপ্রণেতারা, যার মধ্যে তার নিজ দলের সদস্যরাও ছিলেন, তাকে পদচ্যুত করার পক্ষে ভোট প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার পেনিয়া নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে কর্তৃপক্ষ তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে বরং অসদাচরণের অভিযোগে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করে। এর ফলে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রাপ্য দায়মুক্তি এবং আজীবনের জন্য সিনেট সদস্য থাকার বিশেষ সুবিধাগুলো হারিয়েছেন।
ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনোর পতনের ফলে প্যারাগুয়ের প্রায় ৩০ লাখ আমানতকারী তাদের সঞ্চয় এবং পেনশনের অর্থ তুলতে পারছেন না, যার ফলে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যা দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দেয়। বিশেষ করে রাজধানী আসুনসিওনে এই আন্দোলনের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। পেনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি প্রক্রিয়ায় কারসাজি করেছেন এবং পেনশন তহবিলের অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যবহার করে প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম গোপনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সিনেটের ৪৫ জন সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন এই অভিশংসন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, আর একজন অনুপস্থিত ছিলেন। ভোটাভুটির পর সিনেট প্রেসিডেন্ট বাসিলিও নুনিয়েজ জানান, দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার দায়ে পেনিয়া দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সিলভিয়া মার্গারিটা গনজালেস ভেস্টার জানিয়েছেন, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রভাব খাটানো এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শনিবার পেনিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সিনেটর রাফায়েল ফিলিজোলা এই ঘটনাকে দেশটির গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের ওপর বড় আঘাত। অন্যদিকে, পেনিয়ার আইনজীবী রিকার্দো প্রেদা এই অভিযোগগুলোকে 'সুযোগসন্ধানী' ও 'বেপরোয়া' বলে দাবি করেছেন। পেনিয়া তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার থাকার কথা স্বীকার করলেও সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া শেষ ভাষণে তিনি জনগণের আস্থা ভঙ্গের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক পতনের এই ঘটনায় পেনিয়ার বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই ফৌজদারি মামলা হতে পারে।




