যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ব্যাপক বিপর্যয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর পদ থেকে সরে আসার কথা বিবেচনা করছেন। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্র দ্য ইনডিপেনডেন্টকে জানিয়েছে, রুবিও ছাড়াও আরও চার থেকে পাঁচজন মন্ত্রী পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মূলত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে এই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন রুবিও। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে তাঁর প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা থাকায়, বর্তমান প্রশাসনের বিতর্কিত নীতি এবং বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের দায় এড়িয়ে চলতে তিনি আগ্রহী। সূত্রমতে, ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও এই বাস্তবতাকে স্বীকার করেছেন।
নির্বাচনের সর্বশেষ হিসেবে দেখা গেছে, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ২৫৩টি এবং রিপাবলিকানরা ১৬০টি আসন জিতেছে। অন্যদিকে উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের দখলে ৫৪টি এবং রিপাবলিকানদের দখলে ৪৪টি আসন। এই ফলাফলের পর ডেমোক্র্যাটদের হাতে হাউস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ চলে আসায় প্রশাসনে অভিশংসনের উদ্যোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে অনেক মন্ত্রীই আর সরকারে থাকতে আগ্রহী নন।
এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন উঠলেও হোয়াইট হাউস তা নাকচ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের সরকারের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কো রুবিওর পদে বহাল থাকা প্রায় অসম্ভব।
এদিকে, এই পুরো পরিস্থিতি এবং মন্ত্রীদের পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইনজেল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর অভিযোগ এনেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, তরুণ প্রজন্মের ভোট এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।




