বর্তমানে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) জ্যেষ্ঠ সদস্য সুজায়েত উল্যা সাময়িকভাবে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানিয়েছেন, পিএসসির অভ্যন্তরীণ ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়নি। তাঁর ভাষ্যমতে, রুটিন কাজগুলো ঠিকঠাক ও স্বাভাবিক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে; কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটছে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

এই পরিস্থিতির কারণ হলো, চেয়ারম্যান পদ থেকে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের পদত্যাগের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এখনো নতুন কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ১৮ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে যোগদান করা এই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই বছরের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক অঙ্গনে এবং পিএসসির ভেতরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

চলমান পরীক্ষার বিষয়ে সুজায়েত উল্যা আরও জানান, বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের ভাইভা পরীক্ষা অব্যাহত আছে। পুরো কমিশন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে এই বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকল স্তরের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পদত্যাগের মাত্র ছয় দিন আগে, ১২ আগস্ট, পিএসসি কার্যালয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ আলোচনা করেন মোবাশ্বের মোনেম। সেদিন তিনি ৫০তম বিসিএসের হালনাগাদ পরিস্থিতি, আগামী নভেম্বরে ৫১তম বিসিএসের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা এবং বিসিএস ভাইভার জন্য কম্পিটেন্সি বেজড বা দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। কিন্তু সেই দীর্ঘ আলাপে নিজের পদ ছাড়ার বিষয়ে কোনো ধরনের আভাস বা ইঙ্গিত দেননি। ফলে মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে হঠাৎ পদত্যাগের চিঠি জমা দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো প্রশাসনিক বা সরকারি চাপ ছিল কিনা, নাকি এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই নেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের চাপ বা অসন্তোষের বিষয়গুলো সরাসরি অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ তাঁর ওপর ছিল না। শারীরিক অসুস্থতা এবং শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাই এই পদ ছাড়ার মূল কারণ হিসেবে মোবাশ্বের মোনেম ব্যাখ্যা দিয়েছেন।