মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিনোদন জগতের আলোচনায় শীর্ষস্থানে উঠে এসেছেন ৬ ফুট ৩ ইঞ্চির তরুণ অভিনেতা কর্নেল ইয়াং। নেটফ্লিক্সের বহুল আলোচিত সিরিজ ‘আ ডিফারেন্ট ওয়ার্ল্ড’-এর নতুন সংস্করণে শ্যাকিল জনসন চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর দাগ কেটেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সিরিজটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আইএমডিবি-তে তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।
কর্নেল ইয়াংয়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইসে, যেখানে তিনি সাত ভাই-বোনের একজন। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর প্রবল ঝোঁক ছিল। স্কুল এবং পরবর্তীতে ম্যাককেন্ড্রি ইউনিভার্সিটিতে তিনি ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং ওয়াইড রিসিভার হিসেবে মাঠ কাঁপিয়েছেন। পড়াশোনা করলেও তখন অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল কেবল শখের পর্যায়ে, পেশা হিসেবে ভাবেননি কখনোই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়ে মার্কেটিং পড়ার একঘেয়েমি কাটাতে তিনি থিয়েটারে যোগ দেন। ফুটবল প্র্যাকটিসের পর নাটকের মহড়ায় অংশ নেওয়া ছিল তাঁর রুটিন। এই দ্বৈত জীবনকে তিনি বাস্তব জীবনের ‘ট্রয় বোল্টন’-এর সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি একই সাথে ফুটবল এবং থিয়েটারে দক্ষ ছিলেন।
অভিনয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয় মিডল স্কুলে, তবে ক্যারিয়ার হিসেবে একে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কলেজ শেষ করার পর। তাঁর প্রথম পর্দার কাজ ছিল ২০২৫ সালে ‘বিয়ন্ড দ্য গেটস’ সিরিজে একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে। এরপর নেটফ্লিক্সের ‘ফরএভার’ সিরিজে টড চরিত্রে অভিনয় করেন, যা ছিল তাঁর প্রথম টিভি শো। তবে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘আ ডিফারেন্ট ওয়ার্ল্ড’ সিরিজটি। এখানে তিনি অভিনয় করেন রন জনসনের ছেলে শ্যাকিল জনসনের ভূমিকায়। গল্পের চরিত্রটি একজন তারকা কোয়ার্টারব্যাক, যে ব্যক্তিগত শোক, বাবার প্রত্যাশা এবং প্রেমের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এইচবিসিইউ-তে পড়তে আসে। বাস্তব জীবনে ফুটবলার হওয়ায় শ্যাকিল চরিত্রের সাথে নিজের মিল খুঁজে পান কর্নেল। অডিশনের আগেই স্ক্রিপ্ট পড়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে এই চরিত্রটি তাঁর জন্যই লেখা।
শৈশবে বোনের সাথে এই সিরিজটি দেখার স্মৃতি কর্নেলের মনে এখনো অমলিন। ২০২৪ সালে সিরিজটি পুনরায় দেখার পর যখন এর নতুন সংস্করণের খবর আসে, তিনি নিজেই এজেন্টের মাধ্যমে অডিশনের চেষ্টা করেন। হলিউডের পরিচিত মুখ এবং কিংবদন্তি অভিনেতা-নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার শুরুতে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, ডেবি অ্যালেনসহ সহশিল্পীদের আন্তরিকতায় তিনি দ্রুত খাপ খাইয়ে নেন।
২৫ বছর বয়সী এই তরুণের জীবন প্রমাণ করে যে, জীবনের প্রাথমিক পরিকল্পনা বদলে ফেললে কখনও কখনও সবচেয়ে বড় সাফল্য আসতে পারে। ফুটবল মাঠ ছেড়ে অভিনয়ের আঙিনায় এসে তিনি খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি ‘ডুয়িং লাইফ’ নামের একটি সিনেমায় কাজ করছেন এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।




