ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য অস্ত্রোপচারের পর প্রথমবারের মতো নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কথা বললেন পোপ লিও চতুর্দশ। লাতিন আমেরিকা সফরে যাওয়ার পথে সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে 'বেশ সুস্থ' আছেন। অপারেশন শেষ হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় ১২ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সফরে তিনি উরুগুয়েতে পৌঁছেছেন।
৭১ বছর বয়সী এই পোপ জানান, গত মাসে একটি রুটিন স্ক্যান করার সময় তার শরীরে টিউমার ধরা পড়লে এই সফরের বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে তিনি এই সফর করতে পেরে 'অত্যন্ত আনন্দিত'। উরুগুয়েগামী বিমানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পোপ লিও বলেন, "আমি স্বীকার করছি যে, প্রথম দিন থেকেই আমার মনে কোনো সন্দেহ ছিল না; আমি বিশ্বাসী ছিলাম যে এই সফর অবশ্যই হতে হবে।"
চিকিৎসকদের মতে, তার ডান ফুসফুসের নিচের অংশের টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচারটি সফল হয়েছে এবং ক্যানসারটি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। পরীক্ষার ফলাফলে এটি 'লোকালাইজড লাং অ্যাডেনোকার্সিনোমা' হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। পোপ তার এই সুস্থতার কৃতিত্ব দক্ষ চিকিৎসা কর্মীদের দিয়েছেন।
শুক্রবার মন্টেভিডিওতে পৌঁছালে পোপমোবাইলে করে যাওয়ার সময় সমুদ্রতীরবর্তী বিশাল জনতা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। প্লাজা ইন্ডিপেনডেন্সিয়াতে দেওয়া তার প্রথম ভাষণে পোপ বিশ্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য 'সহজলভ্য' করার আহ্বান জানান। নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক মানুষ সময়মতো রোগ নির্ণয় বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পান না, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। দিনটি শেষ করেন মন্টেভিডিও ক্যাথেড্রালে প্রার্থনা করার মাধ্যমে।
পোপ লিওর এই ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক সফরের মোট দূরত্ব হবে ২০ হাজার মাইলেরও বেশি। উরুগুয়ের পর আগামী রবিবার তিনি আর্জেন্টিনায় যাবেন, যা তার পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের জন্মভূমি। এছাড়া তিনি পেরু সফরে যাবেন, যাকে ভ্যাটিকান একটি 'ঘরে ফেরা'র সফর হিসেবে বর্ণনা করেছে, কারণ পোপ সেখানে দীর্ঘ সময় মিশনারি এবং বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি জানান, যারা চার্চের কাছ থেকে 'আশার' বাণী প্রত্যাশা করেন, তাদের পাশে থাকাই তার মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ক্যানসার রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচারের পর পোপের প্রথম জনসমক্ষে আসা ছিল অ্যাপোস্টলিক প্যালেসের বারান্দা থেকে ঐতিহ্যবাহী 'অ্যাঞ্জেলাস' প্রার্থনা পাঠ করা। আগামী রবিবার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে তিনি আবারও এই প্রার্থনা ও আশীর্বাদ প্রদান করবেন। ধীরে ধীরে তিনি তার যাবতীয় দাপ্তরিক দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করছেন।




