যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সম্প্রতি গৃহীত সম্পত্তি কর হ্রাসের একটি নতুন আইন (অ্যামেন্ডমেন্ট ৩) নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে 'হোমস্টেড এক্সজেম্পশন' বা গৃহস্থালি কর অব্যাহতি বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে বাড়িঘরের মূল্যায়নের একটি বড় অংশ করমুক্ত হবে। বর্তমানে এই করমুক্ত সীমা ৫১,৪০০ ডলার হলেও ২০২৭ সালে তা বেড়ে হবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ২০২৮ সালে তা ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও ভাড়া দেওয়া সম্পত্তির বার্ষিক মূল্যায়নের সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এই নিয়ম স্কুল সংক্রান্ত করের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যদিও এটি ভবিষ্যতে অ-স্কুল সংক্রান্ত সম্পত্তি কর সম্পূর্ণ বাতিলের পথ প্রশস্ত করেছে।

রাজ্য অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই আইনের প্রথম বছরেই স্থানীয় সরকারগুলোর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার লোকসান হবে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে এই ঘাটতি বার্ষিক ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যদিও আইনের শর্ত অনুযায়ী অবশিষ্ট করের আয় জননিরাপত্তা ও স্থানীয় সেবায় ব্যয় করতে হবে, তবে পুলিশ, দমকল বা ইএমএস-এর মতো জরুরি পরিষেবাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশনা এতে নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে কর কমানোর এই পদক্ষেপকে সমর্থিত করলেও, পুলিশ ও দমকল প্রধানরা বাজেট সংকটের আশঙ্কায় এর বিরোধিতা করেছেন।

ট্যাম্পা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অ্যাবিগেল হল এবং অ্যারন উড তাদের বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, স্থানীয় সরকারগুলোর ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হয় পুলিশ ও জরুরি সেবায়। তাই সম্পত্তি কর হ্রাস সরাসরি এই খাতগুলোকে আঘাত করবে, বিশেষ করে কম জনসংখ্যার ছোট কাউন্টিগুলোতে। পিনেলাস কাউন্টির শেরিফ বব গুয়ালটিয়ারি সতর্ক করেছেন যে, তার কাউন্টির সাধারণ তহবিল প্রথম বছরেই প্রায় ১৮ কোটি ডলার হারাতে পারে। এতে কমিউনিটি পুলিশিং, মেরিন পেট্রোল এবং কে-৯ ইউনিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সংকুচিত হবে এবং জনবল কমিয়ে আনতে হবে। এছাড়া ইএমএস তহবিলের প্রায় ২ কোটি ডলার কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাবেক রিপাবলিকান স্টেট সিনেটর এবং ফ্লোরিডা পলিসি প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট জেফ ব্র্যান্ডেস এই পরিস্থিতিকে 'গ্রামীণ অন্ধকার যুগের' সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, মিয়ামির মতো বড় শহরগুলো হোটেল কর বা পর্যটন খাত থেকে বিকল্প আয় করতে পারলেও, ভেতরের ছোট শহরগুলোর তেমন সুযোগ নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্লোরিডার ৪১১টি শহরের মধ্যে ১০৮টিতে ৯০ শতাংশের বেশি হোমস্টেড মূল্য এখন করমুক্ত হবে। এর ফলে জরুরি সেবার বিলম্ব, রাস্তার জীর্ণ অবস্থা এবং লাইব্রেরি বা বিনোদন কেন্দ্রের মতো সেবাগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ কমিয়ে ওই অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করবে।

এই সংকটের প্রভাব homeowners-দের বীমা প্রিমিয়ামের ওপরও পড়তে পারে। দমকল সেবার মান হ্রাস পেলে আইএসও (ISO) রেটিং কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রিমিয়াম বাড়ানোর সুযোগ করে দেয়। ফলে সম্পত্তি কর থেকে যে সাশ্রয় হবে, তা বীমা খরচের বৃদ্ধিতে হারিয়ে যেতে পারে।

ট্যাক্স ফাউন্ডেশন নামক থিঙ্কট্যাংক এই পদক্ষেপকে কেবল কর হ্রাস নয়, বরং স্থানীয় সরকারি অর্থায়নের একটি মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে। ফ্লোরিডায় যেহেতু কোনো স্টেট ইনকাম ট্যাক্স নেই, তাই সম্পত্তি কর ছিল আয়ের একটি স্থিতিশীল উৎস। এই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়লে স্থানীয় পরিষেবাগুলোর খরচ মেটানো কঠিন হবে, যা সামগ্রিকভাবে ফ্লোরিডার অর্থনীতি ও সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অন্যদিকে, বিদায়ী গভর্নর রন ডেসান্টিস এই আশঙ্কাগুলোকে 'ভীতি প্রদর্শন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে রাজ্য অনুদানের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে এই অনুদানগুলো নিয়মিত রাজস্বের অভাব কীভাবে পূরণ করবে, তা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।