নেত্রকোনা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আক্তারকে পদ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে সম্প্রতি তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও পাঠানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
২৩ বছর বয়সী সাদিয়া আক্তার নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার দুপুরেই তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে পৌর শহরের বলাইনগুয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
দলের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে সাদিয়াকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে তাকে।
এদিকে, সাদিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সাদিয়া অভিযোগের জবাব দিয়ে রেহাই পাবেন। তার মতে, সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দের আক্রোশের শিকার হয়েছেন সাদিয়া।




