পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে বড় জয় পেয়ে ২০২৪ সালের পর প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে ইংল্যান্ড। তবে এই সাফল্যের মাঝেও ব্যক্তিগত ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দলটির অধিনায়ক জো রুটকে ঘিরে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে নড়বড়ে অবস্থা তাঁর। এই গ্রীষ্মে ঘরের মাঠে মাত্র দুটি ফিফটি করেছেন তিনি, গড় নেমে এসেছে ২৯.৪৪-তে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন গড়। আরও বড় চিন্তার বিষয়, সর্বশেষ ৭ টেস্টে ৯ বার এলবিডব্লু হয়েছেন তিনি, যার মধ্যে এই গ্রীষ্মেই ৭ বার। লর্ডস টেস্টের দুই ইনিংসেই তিনি এলবিডব্লুর শিকার হয়েছেন।
তবে এই পরিস্থিতিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ রুট। অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসী। লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট শেষে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে এই খেলাটা খেলছি। সব সময়ই সমস্যার সমাধান বের করেছি। এবারও আলাদা কিছু দেখছি না। ১৪ হাজার রান তো এমনি এমনি করিনি। প্রায় ১৫ বছর এই পর্যায়ে খেলারও নিশ্চয়ই কারণ আছে।’ তাঁর মতে, এই মৌসুমে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনই ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। বল বেশি নড়ছে, সিদ্ধান্তগুলোও সব সময় পক্ষে আসছে না। ‘একটি নির্দিষ্ট উপায়ে আউট হওয়া অবশ্যই হতাশাজনক। তবে এর মধ্যে অন্তত চারটি সিদ্ধান্ত ছিল আম্পায়ার্স কল, যা যেকোনো দিকেই যেতে পারত। তা ছাড়া এখন বলও আগের চেয়ে বেশি নড়ছে,’ বলেন তিনি।
এই কঠিন সময়টাকে তিনি দেখছেন শেখার সুযোগ হিসেবে। ‘বাস্তবতা বুঝতে হবে। কোথায় আছি, সেটা জানতে হবে। একই সঙ্গে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়, সেটাও ভাবতে হবে। আমি নিশ্চিত, এই সময়টা পেরিয়ে যাব। খুব বেশি চিন্তিত নই,’ বলেছেন রুট। টেস্টে শচীন টেন্ডুলকারের ১৫৯২১ রানের রেকর্ড ছোঁয়ার লক্ষ্য এখন তাঁর সামনে। এই মুহূর্তে ১৬৮ টেস্টে তাঁর রান ১৪২০৮। তবে সর্বশেষ ১২ মাসে খেলা ১০ টেস্টে তাঁর গড় মাত্র ৩৬.৯৪, যার কারণে ক্যারিয়ার গড়ও কমে হয়েছে ৫০.৩৮। সামনের পথ যে কঠিন, তা নিজের বর্তমান ফর্ম দিয়েই বুঝতে পারছেন রুট। ‘এই খেলায় কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। সবকিছুর জন্য পরিশ্রম করতে হয়। আমি সেটাই করে যাব,’ তাঁর ভাষ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটিং কঠিন হওয়ার পেছনে বলেরও ভূমিকা দেখছেন রুট। তাঁর ধারণা, ডিউক বলের গঠনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ‘বলগুলো কিছুটা আলাদা। মনে হচ্ছে উপরের প্রলেপ বা পলিশে কিছু বদল এসেছে। বল যাতে আকার না হারায় তা নিয়ে হয়তো তারা চিন্তিত ছিল। এখন দেখছি, পিচে বেশি দাগ ফেলছে,’ বলেন তিনি।
ব্যক্তিগত ফর্ম যেমনই হোক, অধিনায়ক হিসেবে রুটের দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুটা দারুণ হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলির পর লর্ডসেও বড় জয় দিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। তবে আনন্দের এই হাওয়ায় যাতে কোনো কালবৈশাখীর ছায়া না পড়ে, সেদিকে কড়া নজর এই অধিনায়কের। সাম্প্রতিককালে নাইটক্লাব কাণ্ডে বেশ কয়েকবার খবরের শিরোনাম হয়েছে ইংল্যান্ড দল। এই টেস্টের আগেও ডার্বিতে এক নাইটক্লাবের বাইরে ঘটনার জেরে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন ব্রাইডন কার্স। সিরিজ জয়ের আনন্দের মধ্যেও তাই সতীর্থদের একটা বার্তা দিয়ে রাখলেন রুট, ‘এ নিয়ে যেন আর কথা না হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট ম্যাচ জেতা কঠিন, সিরিজ জেতা আরও কঠিন। উদযাপন করো, আনন্দ করো, কিন্তু সেটা হোক পরিমিত আর পরিণতভাবে।’

