আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ভিসা দিতে আবারও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এই খবর সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, গত বছরও একই কারণে ওয়াশিংটন তাঁকে ভিসা দেয়নি, যার ফলে সেই অধিবেশনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে হয়েছিল প্রেসিডেন্ট আব্বাসকে।

যুক্তরাষ্ট্র কেবল প্রেসিডেন্ট আব্বাসকেই নয়, বরং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-র সদস্যদের ওপর আগে থেকেই ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি জানিয়েছে যে, এই বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, শান্তি প্রক্রিয়ার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণেও এই দুটি সংগঠন ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পিএ এবং পিএলও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়া আলোচনার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা চালানো এবং ফিলিস্তিনি বন্দি ও তাঁদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার বিষয়টিকেও মার্কিন প্রশাসন গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি, 'সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডকে গৌরবান্বিত' করার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এই সবকিছুর প্রেক্ষিতে ২০০২ সালের ‘মিডল ইস্ট পিস কমিটমেন্টস’ আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা প্রদান করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে কোন কোন কর্মকর্তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

যদিও সাধারণ ভিসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক মিশনে পিএলওর যে সকল কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের জন্য পূর্বের ভিসা ছাড়ের সুবিধা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। উল্লেখ্য, পিএলও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধি সংগঠন এবং পিএ হলো ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সীমিত স্বায়ত্তশাসনপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ। উভয় প্রতিষ্ঠানই বিশ্বমঞ্চে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য কাজ করে থাকে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ মোট ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে ভিসা দেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।