চরম মানসিক চাপ এবং মাঠের ভেতরে অসংলগ্ন ফিল্ডিংয়ের কারণে এক নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করে আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচটি ড্র করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই টেস্ট ম্যাচে চতুর্থ ইনিংসে আফগানিস্তানকে ৪৭৯ রানের এক পাহাড়প্রস্ত লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য লড়াই চালিয়ে ১৪২ ওভার ব্যাটিং করে ম্যাচটি সেভ করে তারা। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ ইনিংসে এত দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করে ড্র করার রেকর্ড খুব সামান্য; এর আগে ২০২২ সালে পাকিস্তানের এবং ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের এমন রেকর্ড ছিল।

ম্যাচের শেষ দিনে আফগানিস্তান ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তারা দমে যায়নি। দিনের প্রথম সেশনে লিটন দাসের দুর্দান্ত এক ক্যাচে রহমত শাহ আউট হলেও দ্বিতীয় সেশনে শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যর্থতার পালা। লিটন দাস আরও একটি সহজ সুযোগ মিস করেন, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। এরপর বোলার নাঈম হাসান নাজমুলের থ্রো ধরেও স্টাম্পে লাগাতে ব্যর্থ হন, ফলে কায়েস আহমেদ ক্রিজে টিকে যান। একইসাথে একটি স্টাম্পিংয়ের সুযোগও হাতছাড়া হয়, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

তবে লড়াইয়ের মাঝে আশার আলো দেখা দিয়েছিল সেকুল্লাহ আতালের উইকেট পতনের পর। ৩৩২ বলে ১১১ রান করে বিদায় নেন আতাল। সপ্তম উইকেটটি যখন পড়ে, তখন খেলায় আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় বাকি ছিল। মনে করা হচ্ছিল বাংলাদেশ সহজেই জয় ছিনিয়ে নেবে। কিন্তু এরপরই শুরু হয় চূড়ান্ত বিপর্যয়। মিরাজের বলে কায়েস আহমেদ একটি সহজ ক্যাচ দিয়ে দিলেও তা ধরতে ব্যর্থ হন হাসান মাহমুদ। হতাশা এবং ক্ষোভে মাঠের ভেতরেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ইয়ামিন আহমেদজাইকে আউট করে মুমিনুল হাসান দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরলেও শেষ দুটি উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে যান কায়েস আহমেদ এবং শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন জিয়া-উর-রেহমান। যদিও হাসান মাহমুদ এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এবং লিটন দাস ব্যাটিং-ডিসমিসালের এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন, তবুও দলের সামগ্রিক ব্যর্থতা জয় ছিনিয়ে নিতে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের দৃঢ় ব্যাটিংয়ের সামনে পর্যুদস্ত হয়ে ড্রতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে।