বায়ার্ন মিউনিখের মতো তারকায় ঠাসা এক দলে নিজের বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে। বর্তমানে দলের আক্রমণভাগের মূল কারিগর হয়ে ওঠা এই ফুটবলারের পায়ের জাদুতে মুগ্ধ গ্যালারির দর্শক। তাঁর খেলায় এমন এক আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে যা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এক কঠিন ধাঁধা। গত মৌসুমে দলের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন সেই মান বজায় রাখাই হবে তাঁর মূল চ্যালেঞ্জ, কিন্তু ওলিসে নিজেকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেছেন।

চলতি মৌসুমের শুরুতেই তাঁর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত মাসে অনুষ্ঠিত ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে বায়ার্ন ২-১ গোলে জয়লাভ করে। সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একটি গোল করা এবং অন্যটি করানোর পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন ওলিসে। এই জয়ের মাধ্যমে বায়ার্ন মৌসুমের প্রথম ট্রফিটি অর্জন করে, যেখানে ওলিসের অবদান ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। এরপর বুন্দেসলিগায় স্টুটগার্টের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় জয় এবং সামগ্রিকভাবে ৫ ম্যাচে ৪টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন।

ওলিসের বিশেষত্ব কেবল গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁর খেলার ধরনে। ড্রিবলিং এবং গতির সঠিক সংমিশ্রণ তাঁর খেলার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি জানেন কখন গতি বাড়াতে হবে আর কখন সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করতে হবে। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য তাঁকে সামলানো অত্যন্ত দুঃসাধ্য; কারণ তিনি দূরে থাকলেও বিপজ্জনক এবং খুব কাছ থেকে চাপ দিলেও তাঁর কারিকুরিতে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই ক্ষমতা তাঁকে একজন সাধারণ প্রতিভাবান উইঙ্গার থেকে ম্যাচ-জয়ী ফুটবলারে রূপান্তরিত করছে।

সমর্থকদের কাছেও তিনি এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—পরপর দুই মাস বায়ার্ন মিউনিখ এবং বুন্দেসলিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বুন্দেসলিগার এই সাফল্যকে চ্যাম্পিয়নস লিগে বজায় রাখাই হবে আসল পরীক্ষা। ইউরোপের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতার নকআউট পর্যায়ে যেখানে সামান্য একটি ভুল বা সঠিক সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়, সেখানে ওলিসে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন তা এখন দেখার বিষয়। আজ রাতে নরওয়ের ক্লাব ভাইকিংয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বায়ার্ন, যেখানে আবারও তাঁর নৈপুণ্যের পরীক্ষা হবে।

তারুণ্যের উদ্দীপনা এবং অভিজ্ঞতার সঠিক মেলবন্ধনে ওলিসে এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যেখানে তাঁকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখা সম্ভব। মিউনিখের ফুটবল ইতিহাসে অনেক তারা এসেছে, তবে ওলিসেকে দেখা হচ্ছে সেই ফুটবলার হিসেবে যিনি কেবল আকাশ আলোকিত করেন না, বরং দলের সামনে পথ দেখান। ধারাবাহিকতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংমিশ্রণে তিনি এখন ইউরোপীয় ফুটবলের এক প্রাসঙ্গিক নাম হয়ে উঠছেন।