সাবেক মার্কিন সেনা মনোবিজ্ঞানী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ফর্ট হুড হামলাকারীর মৃত্যুর দৃশ্য অনলাইনে দেখানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সম্মতি ছিল, কিন্তু ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে তিনি এই পরিকল্পনা বাতিল করেন। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভালো মানুষ এই মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য দেখতে আগ্রহী নন, তাই লাইভ সম্প্রচার করা হবে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, এই মৃত্যুদণ্ড সবার সামনে সম্প্রচার করলে বিশ্ববাসী জানতে পারত যে আমেরিকা সন্ত্রাসীদের সাথে কীভাবে মোকাবিলা করে, যা একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হতে পারত। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমেই হাসান মারা যাবেন, কিন্তু তা লাইভ স্ট্রিম করা হবে না। যদিও সাধারণ মানুষের জন্য এটি সম্প্রচার হবে না, তবে নিহতদের পরিবারকে সরাসরি উপস্থিত থেকে মৃত্যুদণ্ড দেখার সুযোগ দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, তারা ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করার দাবিদার।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে টেক্সাসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জন নিরস্ত্র মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন নিদাল হাসান এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেছিলেন। পেন্টাগনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি হবে প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। এর আগে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে লাইভ সম্প্রচারের পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে এই ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি রয়েছে। ট্রাম্প নিজেও হাসানকে 'সম্পূর্ণ পাগল' হিসেবে অভিহিত করে মৃত্যুদণ্ডের সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং লাইভ সম্প্রচারের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিলেন।

তবে এই লাইভ সম্প্রচারের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ৭২ জন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। একটি চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন যে, মৃত্যুদণ্ড লাইভ স্ট্রিম করলে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্মান এবং দেশের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করবে। অন্যদিকে, মার্কওয়েন মালিন এই উদ্বেগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, লাইভ সম্প্রচারের ফলে হাসান একজন 'শহিদ' হিসেবে পরিচিতি পাবেন বা উগ্রবাদ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে এই মৃত্যুদণ্ডের বৈধতা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও নির্ধারিত তারিখেই তা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের।