ভারতের রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা ‘তেরঙা ওড়াও’ নামের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার এই রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী শুক্রবারই এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সামব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার সমন্বিত বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, কর্মসূচি চলাকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। পুলিশ প্রশাসন আদালতকে এই মর্মে আশ্বস্ত করেছে যে, আইন মেনে সমাবেশটি সামাল দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মূলত, কনট প্লেসের একজন হকার এই বিক্ষোভের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, উৎসবের মৌসুমে এবং বিশেষ করে দশেরার সপ্তাহান্তে মধ্য দিল্লির মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবেদনকারীর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, রাজনৈতিক প্রতিবাদের জন্য সেন্ট্রাল পার্ক মোটেও উপযুক্ত স্থান নয় এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের নির্দেশ প্রয়োজন। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশও অননুমোদিত জমায়েতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ওই কর্মসূচির বিরুদ্ধে আর্জি জানিয়েছিল, যা আদালত ultimately খারিজ করে দেয়।

আদালতে শুনানির সময় অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা জানান, সিজেপি-র কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপক অভিযোগ করেন, গত ১৫ দিনে দিল্লির রাস্তায় অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া বিরোধী দলের নেতাদের আটক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘রক্ষা’ করার চেষ্টা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

সিজেপি প্রধান আরও জানান, দলের সদস্য সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমানে কারাগারে বন্দি। ১০ অক্টোবরের মূল আহ্বানের পর যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানোর চেষ্টা করায় তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়।ইменно এই গ্রেপ্তার এবং দমন-পীড়নের প্রতিবাদ জানাতেই তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে ‘তেরঙা ওড়াও’ অভিযানে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন অভিজিৎ দীপক।