ফরিদপুর সদরে করিমপুর হাইওয়ে থানার পাশে পুলিশের হেফাজতে রাখা একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে ফরিদপুর-খুলনা (এন ৭) মহাসড়কের পাশে থানার সামনের খোলা মাঠে রাখা ওই বাসে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম জানান, রাত ১০টা ২৭ মিনিটে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটিকে দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখেন।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শ্রীবাস বাড়ৈ জানান, রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় ৩৫ মিনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ১১টা ১০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে বাসটির অধিকাংশ অংশ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কয়েল, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ কিংবা তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে আগুন লাগানো হয়েছে কি না, তা তদন্তের পর পরিষ্কার হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাইওয়ে পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে মধুখালীর নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মেছড়দিয়া মোড় এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল পূর্বাশা পরিবহনের এই বাসটি। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ময়দার বস্তাবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেওয়ার ফলে ওই দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়, যাতে বাসের সুপারভাইজার নিহত হন। সেই দুর্ঘটনার আলামত হিসেবে বাসটি করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছিল।
থানার অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ওসি আবদুস সালাম বলেন, কয়েক মাস আগে থানাটি নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হলেও প্রয়োজনীয় সব কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই কারণে জব্দ করা যানবাহনগুলো মহাসড়কের পাশে খোলা মাঠে রাখা হয়। মাঠটির চারদিকে কোনো সীমানাপ্রাচীর না থাকায় এটি উন্মুক্ত ছিল, যার ফলে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। সীমানাপ্রাচীর থাকলে এই ঝুঁকি এড়ানো যেত বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।




