সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তরবড়দল ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম রজনী লাইনে এক মর্মান্তিক ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানদের বিষ খাইয়ে তাদের বাবা নিজেও বিষপান করেছেন। বর্তমানে ওই ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার ভোরে এই ঘটনার কথা জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর হিসেবে কাজ করা শরাফত আলী তার তিন সন্তান—১০ বছর বয়সী মাওয়া আক্তার, ৭ বছর বয়সী শামীম মিয়া এবং দেড় বছর বয়সী তামিম মিয়াকে নিয়ে বাড়িতেই থাকতেন। চার দিন আগে তার স্ত্রী শ্রমিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছেন। বাড়িতে অন্য কোনো অভিভাবক না থাকায় তিনি সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে চিৎকার শুনতে পেয়ে প্রতিবেশীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর অসুস্থ শরাফত আলীকে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান, বিষপানের ফলে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় তাকে আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া ও স্থানীয়দের ধারণা, প্রবাসে থাকা স্ত্রীর সাথে ফোনে ঝগড়া অথবা স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে একাকীত্বের কারণে অভিমনে শরাফত এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত জানান, শনিবার ভোরে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তিনটি শিশু অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে, যাদের চিকিৎসক মৃত বলে শনাক্ত করেন। শিশুদের মরদেহ ময়নতচপের জন্য তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।




