পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ২৫৫ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা) জরিমানা করেছে। নেশনস লিগের প্রাক্কালে জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করার কারণে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে রোনালদোর বিপুল আয়ের তুলনায় এই জরিমানার পরিমাণ এতটাই সামান্য যে, তা নিয়ে নেট দুনিয়ায় চলছে উপহাস।
পর্তুগালের সংবাদমাধ্যম ‘এ বোয়া’ একটি আকর্ষণীয় হিসাব বের করে দেখিয়েছে যে, এই জরিমানার টাকা উপার্জন করতে রোনালদোর কত সময় লাগে। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের সঙ্গে গত বছর জুনে চুক্তি নবায়নের পর তার বার্ষিক মূল বেতন প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। বোনাসসহ এই অঙ্ক ২৫ কোটি ইউরোর কাছাকাছি পৌঁছায়। সেই হিসেবে রোনালদোর দৈনিক আয় প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ১১২ ইউরো। এই হিসেবে এফপিএফ-এর ধার্য করা ২৫৫ ইউরো জরিমানা পরিশোধ করতে তার সময় লাগবে মাত্র ৩৮.৬ সেকেন্ড। শতাংশের হিসাবে তার বার্ষিক বেতনের মাত্র ০.০০০১২% এই জরিমানার পরিমাণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একজন ফুটবলপ্রেমী লিখেছেন, সৌদি আরবে প্রতি মিনিটে ৩৫০ ইউরো আয় করা একজন খেলোয়াড়কে ২৫৫ ইউরো জরিমানা করাটা হাস্যকর। সম্প্রতি ‘ফোর্বস’-এর এক জরিপে ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী ফুটবলার হিসেবে রোনালদোর নাম শীর্ষে রয়েছে, যেখানে মাঠ ও মাঠের বাইরে তার মোট আয় ৩০ কোটি ডলার দেখানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির সময়। নেশনস লিগে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে রোনালদো অভিযোগ করেন, দলে তার ভূমিকা নিয়ে কোচ জেসুস দুবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দলের ভেতর নিজের অবস্থান নিয়ে কোচের সঙ্গে বিরোধের জেরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এফপিএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার অপরাধে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা এবং আর্থিক জরিমানা করার বিধান রয়েছে, যার আওতায় এবার এই শাস্তি পেলেন রোনালদো।




