দেশের শিল্প খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া শিল্প খাতে বড় কোনো অর্জন সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি মোংলা ও আনোয়ারার অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে জমি দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত থাকার ফলে কোনো ফলন আসেনি।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের খরচ কমাতে এবং পুঁজির সংকট দূর করতে খোরশেদ আলম সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চীনা ব্যাংকের শাখা খোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, চীন বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় একটি চীনা ব্যাংক থাকলে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। বিশেষ করে রপ্তানি আয় ইউয়ানে জমা থাকলে তা সরাসরি আমদানিতে ব্যবহার করা যাবে, যার ফলে মুদ্রা রূপান্তর ও মধ্যবর্তী ব্যাংকের কমিশন সাশ্রয় হবে। এতে গড়ে প্রায় ১ শতাংশ খরচ কমবে বলে তিনি আশা করেন। পাশাপাশি, স্থানীয় ব্যাংকগুলোর পুঁজির ঘাটতি পূরণে চীনা ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ ও ঋণের নতুন উৎস হতে পারে।

বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি জানান, চীনারা বর্তমানে টেক্সটাইল, চামড়া এবং পোশাকের বর্জ্য থেকে ফাইবার তৈরির খাতের প্রতি আগ্রহী। এছাড়া লিথিয়াম ব্যাটারি, সৌরবিদ্যুৎ এবং হাসপাতাল সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও তাদের আগ্রহ রয়েছে। খোরশেদ আলমের মতে, মার্কিন বাজারে চীনা পণ্যের উচ্চ শুল্কের কারণে চীনারা বাংলাদেশে প্রযুক্তি এনে 'মেড ইন বাংলাদেশ' পণ্য তৈরি করলে তা দ্রুত বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এমনকি চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে যেসব ছোট কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেই পণ্যগুলো বাংলাদেশে তৈরি করে চীনে রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে।

তবে এই বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে হাইটেক শিল্পের জন্য দক্ষ জনবলের তীব্র অভাব রয়েছে। এই সংকট কাটাতে অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশে পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং শ্রমিকদের জন্য আবাসন, স্কুল ও হাসপাতালের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া জ্বালানি সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চাঁদাবাজির মতো সমস্যাগুলো চীনা বিনিয়োগকারীদের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে বলে তিনি জানান।

সরকারের জন্য গাইডলাইন হিসেবে তিনি পরামর্শ দেন, কেবল স্থানীয় বাজারের জন্য বিনিয়োগ নয়, বরং রপ্তানিমুখী শিল্পের বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে। বিশেষ করে লিথিয়াম ব্যাটারি বা সৌর প্যানেলের মতো খাতে দ্রুত অনুমতি দেওয়ার কথা বলেন তিনি। সবশেষে তিনি মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা এবং চীনা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনলে দেশের অর্থনীতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব হবে।