দেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জনপদ পঞ্চগড়ে শরৎকালের মাঝামাঝিতেই প্রকৃতি যেন জানান দিচ্ছে শীতের আসন্ন বার্তা। মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে ঘন কুয়াশার আস্তরণ। সকাল আটটা পর্যন্ত মাঠ, নদীর পাড় ও মহাসড়কে এই কুয়াশার দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। হিমালয়ের সান্নিধ্যে অবস্থিত এই জেলায় সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শীতের প্রকোপ শুরু হয়, তবে এবার তার আগেই প্রকৃতির এমন রূপ পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে ওই এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার বিকেলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক সপ্তাহ ধরেই তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে বলেও জানান ওই পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায়।

সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়, খোলা মাঠ ও ফাঁকা সড়কে ছড়িয়ে আছে সাদা কুয়াশার চাদর। পাশাপাশি সবুজ আমন ধানের ক্ষেতে পাতায় পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু যেন প্রকৃতির এই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত বহন করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কণ্ঠেও ধরা পড়েছে শীতের পূর্বাভাস।

পঞ্চগড় শহরের বাসিন্দা ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় কর্মরত মো. মাসুম (৩০) জানান, কয়েক দিন ধরেই রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এমন কুয়াশার মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে আজ সকালে ঘন কুয়াশা দেখে তার মনে হয়েছে, শীত আসন্ন। অন্যদিকে, শহরে ইজিবাইক চালানো মো. সোলেমান আলী (৫০) বলেন, ভোর থেকেই কুয়াশা পড়ছে, সূর্য উঠার পর কিছুটা কমেছে। দিনের বেলা এখনও গরম অনুভূত হয়, তবে শেষ রাতে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।

এ বিষয়ে আবহাওয়া কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় ব্যাখ্যা করেন, কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। এর মূল কারণ শরৎকালের শুরুতে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তা—দুইটিই একসাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আকাশে অনেক সময় মেঘ জমে থাকে, আবার কখনো হঠাৎ করে মেঘ সরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কুয়াশার মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষ শীতের আগমনী বার্তা পাচ্ছে।

পঞ্চগড়ের ভৌগোলিক অবস্থান হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় শীত মৌসুমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে তাপমাত্রা সাধারণত কম থাকে। এখনও শীতের তীব্রতা না এলেও প্রকৃতির এই আভাসে জনপদে বিরাজ করছে শীতের আমেজ।