রাজধানীর পল্লবীতে ‘লাইভ শপিং’ নামক একটি লাইফস্টাইল পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘ফ্রি শপিং’ অফারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি চটকদার বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, গোলপোস্টে দুটি শটের একটি গোল করতে পারলে তিন হাজার টাকার কেনাকাটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এই প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে শত শত মানুষ ওই দোকানে ভিড় করেন। তবে ভেতরে প্রবেশের পর অফারের প্রকৃত শর্তাবলি নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে ক্রেতাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত প্রায় দুই হাজার মানুষকে দোকান থেকে বের করে দেয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
ঘটনার পর পুলিশ ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে এসেছে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, অফারের বিজ্ঞাপনে অত্যন্ত ছোট অক্ষরে ‘সিএ’ (কন্ডিশনস অ্যাপ্লাই) বা শর্ত প্রযোজ্য কথাটি লেখা ছিল, যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেননি। ফলে তারা হুড়মুড় করে দোকানে চলে আসেন এবং পরবর্তীতে কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। তবে ওসি বাসির স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সেখানে কোনো লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি এবং এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। পুলিশ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দিয়েছে যেন ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো অফারের শর্তাবলি বড় অক্ষরে এবং স্পষ্টভাবে লেখা হয়।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আশিক খান এক লাইভ ভিডিওতে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর মতে, শুক্রবার বেলা তিনটায় ফ্যাক্টরি আউটলেটের উদ্বোধনে বিশেষ অফার দেওয়া হয়েছিল। শর্তটি ছিল—ক্রেতাকে ন্যূনতম তিন হাজার টাকার কেনাকাটা করতে হবে, তবেই তিনি গোলপোস্টে দুটি শট নেওয়ার সুযোগ পাবেন। যদি একটি গোল করতে পারেন, তবে তিনি তিন হাজার টাকা ‘ক্যাশব্যাক’ পাবেন, যার ফলে তাঁর কেনাকাটা কার্যত বিনামূল্যে হয়ে যাবে। আশিক খানের অভিযোগ, ১০-১৫ জনের একটি চক্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেখানে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, কর্মীদের মারধর করেছে এবং গ্রাহকদের ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য লুট করেছে। ঘটনার সময় সেখানে সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ থেকে সাহায্য চেয়ে পোস্ট দেওয়া হয় এবং লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে সেখানকার হট্টগোলের চিত্র প্রচার করা হয়। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর লোকজন এলাকা ত্যাগ করেন।




