পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা ঘনীভূত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সম্প্রতি এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা এড়ানোর সুযোগ এখন অত্যন্ত সীমিত। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আর কোনো বিকল্প পথ কি অবশিষ্ট আছে?
ঘটনার মূলে রয়েছে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবি। তাঁর দল তেহরিক-ই-পাকিস্তান (পিটিআই)-এর নেতা-কর্মীরা গত ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের অভিমুখে একটি লংমার্চ শুরু করেন। নির্ধারিত ৮ অক্টোবরের মধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, সরকারি কঠোর অবস্থানের কারণে সপ্তম দিনেও এই লংমার্চ ওই প্রদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে লংমার্চটি সোয়াবির দিকে অগ্রসর হয়েছে, যেখানে আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের এই আলোচনার পর জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী মঙ্গলবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ (সিনেট) এবং নিম্নকক্ষ (জাতীয় পরিষদ)-এর পৃথক অধিবেশন ডাকা হয়েছে। জিও নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এর অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, যদিও জরুরি অবস্থা জারি করা সরকারের প্রথম পছন্দ নয়, তবে পরিস্থিতি এখন চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পিটিআই জাতীয় নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে উসকানি দিচ্ছে এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের 'ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান' বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে সাংবিধানিক পথ অবলম্বন করতে হবে।
তবে সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে পিটিআই। দলটির চেয়ারম্যান গওহার আলী খান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি বা গভর্নরের শাসন কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না। তাঁর দাবি, একটি নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ওই প্রশাসনকে দুর্বল করে দিয়েছে। পিটিআই-এর মতে, কেবল জনসমর্থন বেশি বলেই খাইবার পাখতুনখাওয়াকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাবন্দী ইমরান খানকে বিভিন্ন মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোকে পিটিআই 'বেআইনি' এবং 'সাজানো' বলে দাবি করে আসছে। এই পরিস্থিতির পর এখন পুরো পাকিস্তানের নজর আগামী মঙ্গলবারের পার্লামেন্ট অধিবেশনের দিকে।




