রুশ ডিজেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাশিয়ার করা একটি চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনের এখন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ, জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা অব্যাহত রেখে বিশ্বের জন্য সমস্যা তৈরি করতে চাইছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জেলেনস্কির উচিত এই হামলা বন্ধ করা। তিনি আরও যোগ করেন যে, জেলেনস্কির পরিবর্তে এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম। ট্রাম্পের মতে, জেলেনস্কি অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো সমঝোতা করতে পারেননি।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেছিলেন যে, আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার বিষয়ে মস্কোর সাথে একটি চুক্তি হয়েছে। এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, নিষেধাজ্ঞার এই শিথিলতা রাশিয়াকে প্রচুর অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দেবে, যা তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এবং নতুন সামরিক সরঞ্জাম কিনতে ব্যবহার করবে। বিশেষ করে জাপোরিঝিয়ায় সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, মস্কো এই চুক্তিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার এবং শহরগুলোতে বোমা বর্ষণ করার সবুজ সংকেত হিসেবে দেখছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস জেলেনস্কির এই অবস্থানের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলে মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার জন্য আরও বেশি রাজস্ব জমা হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানোর এটি সঠিক সময় নয় এবং ইউরোপ তা করবে না। আগামী সোমবার রুশ আগ্রাসনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মাপের নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ অনুমোদন করার পরিকল্পনা করছেন ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্য কমাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা মার্কিন জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতেই রাশিয়ার সাথে এই জ্বালানি চুক্তি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই সম্প্রতি তাদের হামলা জোরদার করেছে। তারা একে অপরের পরিবহন ব্যবস্থা, জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র এবং প্রধান লজিস্টিক হাবগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে। ট্রাম্পের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যা খুশি করতে পারে কিন্তু শোধনাগারে আক্রমণ করা যাবে না, কারণ এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়বে।




