মানুষের স্বাভাবিক সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ হলো চুল। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল পেকে যাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকের অল্প বয়সেই চুল সাদা হয়ে যায়, যা বিশেষ করে নারীদের স্বাভাবিক সৌন্দর্যে প্রভাব ফেলে। দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের কাছে সুন্দর ও পরিপাটি থাকা ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রশংসনীয়। তাই অল্প বয়সে চুল পেকে গেলে এবং স্বামী তা অপছন্দ করলে, বৈধ উপায়ে সেই সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা দাম্পত্য সম্পর্কের প্রীতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
ইসলামি শরিয়তে চুল রং করা বা খেজাব ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয়। বরং নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে চুল রং করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা চুল রং করে না, তাই মুসলিমদের উচিত হবে তাদের বিরোধিতা করা। প্রখ্যাত পণ্ডিত ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এখানে খেজাব বলতে মাথা ও দাড়ির সাদা চুল রং করাকে বোঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, সাদা চুলকে স্বাভাবিক রঙে পরিবর্তন করা জায়েজ।
তবে রঙের নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ করে কালো রঙের ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরাম সতর্ক করেছেন। মক্কা বিজয়ের সময় আবু কুহাফাকে নবীজি (সা.)-এর কাছে আনা হলে তিনি তাঁর সম্পূর্ণ সাদা চুল ও দাড়ি দেখে বলেছিলেন, ‘এটি কোনো কিছু দিয়ে পরিবর্তন করো তবে কালো রং থেকে বিরত থাকো’ (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিসের প্রেক্ষিতে হানাফি ফিকহে সাধারণ অবস্থায় কালো খেজাব ব্যবহার করাকে হারাম বলা হয়েছে, আর হলুদ বা লালচে রং ব্যবহার করাকে মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য করা হয়।
কালো রঙের এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো বার্ধক্যের চিহ্ন গোপন করা। প্রবীণ ব্যক্তিরা কালো রং ব্যবহার করে নিজেদের বয়স লুকিয়ে রাখেন, যা ইসলামে নিরুৎসাহিত। তবে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার বিষয়টি বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি অকালপক্বতা। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্য থাকলে কালো খেজাব ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তাবেয়ি ইবনে শিহাব জুহরি (রহ.)-এর বক্তব্যে পাওয়া যায় যে, যৌবনের সতেজতা থাকা অবস্থায় তাঁরা কালো খেজাব ব্যবহার করতেন, কিন্তু বার্ধক্যের ছাপ ফুটে উঠলে তা ছেড়ে দিয়েছেন।
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মুহাদ্দিসরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, যুবতীরা সরাসরি কালো রং ব্যবহার না করে কালোর সঙ্গে মেহেদি বা লালচে রং মিশিয়ে ব্যবহার করা অধিক উত্তম। এতে একদিকে যেমন চুলের সৌন্দর্য বজায় থাকে, অন্যদিকে কালো রঙের ব্যাপারে বর্ণিত সতর্কতার প্রতিও আমল করা হয়। সামগ্রিকভাবে, বৈধ উপায়ে নিজেকে আকর্ষণীয় রাখা দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্যের পরিপন্থী নয়, তবে বার্ধক্য গোপন করার উদ্দেশ্যে কালো রঙের ব্যবহার পরিহার করা উচিত।



