দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের প্রধান বিমানবন্দরে গত বৃহস্পতিবার এক অভিযানে ৫০টি তোতা পাখির ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ডিমের মধ্যে কিছু ডিম ইতিমধ্যে ফুটে বাচ্চা বেরিয়েছে। হাতে তৈরি ইনকিউবেটর ব্যাগে ডিমগুলো পাচারের চেষ্টার অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী এক থাই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।

বন, মৎস্য ও পরিবেশ বিভাগ (DFFE) জানিয়েছে, উদ্ধার করা ডিমের অনেকগুলো সফলভাবে ফুটেছে এবং বাচ্চাগুলো এখন নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছে যাতে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১ কোটি র্যান্ড (প্রায় ৬২৬ হাজার ডলার বা ৪৬১ হাজার পাউন্ড) জরিমানা বা ১০ বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডিমগুলো এমন একটি তোতা প্রজাতির, যা বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কনভেনশনের (CITES) আওতায় সুরক্ষিত। ডিএফএফই, গ্রিন স্কর্পিয়ন্স এবং পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের যৌথ অভিযানে এই গ্রেপ্তার করা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী ডেভিড মায়নিয়ার সব সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, "আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বিত প্রতিরক্ষার মাধ্যমেই কেবল বেআইনি বন্যপ্রাণী পাচার চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।" তিনি প্রিটোরিয়ার জাতীয় চিড়িয়াখানার কর্মীদেরও বিশেষ ধন্যবাদ জানান, যারা জব্দ করা ডিম ইনকিউবেটে রাখা এবং বাচ্চাদের বিশেষ পরিচর্যায় নিরলসভাবে কাজ করছেন।

এর আগে জুলাই মাসে জোহানেসবার্গের ওআর টাম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৩ বছর বয়সী আরেক থাই নাগরিককে ৪১৮টি তোতার ডিম পাচারের চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ডিএফএফই জানিয়েছে, এই গ্রেপ্তারগুলো আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচার নেটওয়ার্কের ক্রমবর্ধমান পরিশীলিততা তুলে ধরেছে এবং সমন্বিত ও গোয়েন্দা-নির্ভর আইন প্রয়োগকারী প্রচেষ্টার গুরুত্বকে আরও জোরদার করেছে।

বেআইনি সংগ্রহ ও পাচার তোতা পাখির ডিম বন্য পাখির জনসংখ্যা এবং প্রাণীকল্যাণের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন। তারা ব্যাখ্যা করেছেন, এসব ডিম প্রায়শই উন্নত ইনকিউবেটরে এবং এমন পরিস্থিতিতে পাচার করা হয় যা বিকাশমান ভ্রূণ ও বাচ্চাদের কল্যাণকে বিপন্ন করে।

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ দেশ। সেখানে বন্যপ্রাণী পাচার একটি বড় হুমকি। অপরাধী চক্র প্রায়ই হাতি এবং প্যাঙ্গোলিনের মতো প্রাণীদের আন্তর্জাতিক কালোবাজারে বিক্রির জন্য টার্গেট করে। এই হুমকি মোকাবিলায় ছয় বছর আগে দেশটি একটি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ, শুল্ক কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসায় জড়িত অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোকে ভেঙে ফেলাই সেই কৌশলের লক্ষ্য।