পাবনার সদর উপজেলায় নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর বস্তাবন্দি অবস্থায় এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের একজনকে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বুধবার তাদের আটক করা হয়েছিল; তবে হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ এবং মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকারের পর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোস্তফা প্রামাণিক (৪০) ও ইয়াসিন আলী (২৮) — দুজনেই নিহত স্কুলছাত্রীর প্রতিবেশী। থানা কর্মকর্তার মতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে ধর্ষণের পর বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ১০ বছর বয়সী মেয়েটি তার বাবার সাথে স্থানীয় বাজারে গিয়েছিল। বাজার শেষে বাড়ি ফিরে কেনাকাটার ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে সে বাড়ির পাশে খেলতে যায়। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও সে আর ফিরে আসেনি। খোঁজাখুঁজির সময় বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে তার জুতা জোড়া পাওয়া গেলেও শিশুটির আর কোনো সন্ধান মেলেনি। স্বজনরা বিভিন্ন মাধ্যমে তার ছবি প্রচার করার পাশাপাশি মঙ্গলবার পাবনা শহরে মানববন্ধন করে এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। বুধবার সকালে স্থানীয়দের খবরে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির খণ্ডবিখণ্ড বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে ‘আমার বোন মরলো কেন, জবাব চাই’, ‘শিশু অধিকার বাস্তবায়ন চাই’ এবং ‘নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার চাই’ — এমন বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
পাবনায় শিশু হত্যার মূলহোতাসহ দুজন গ্রেপ্তার
পাবনায় নিখোঁজের সাতদিন পর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হওয়া শিশু হত্যার মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে তারা। ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি উঠেছে।




