রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে আন্তবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার একটি ম্যাচ শেষে ইতিহাস এবং চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাউন্ড অব ১৬-এর এই ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর স্লেজিং (কটুকথা) এবং জয় উদ্যাপন নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে সহিংসতায় রূপ নেয়। এই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের গোলরক্ষক আবু সুয়াইব মোহাম্মদ জিমসহ দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বিবরণ অনুযায়ী, বেলা তিনটায় শুরু হওয়া ম্যাচটির নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জয়লাভ করে। এই জয়ের পর থেকেই দুই বিভাগের দর্শকদের মধ্যে পারস্পরিক কটুকথা ও উত্তেজনা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তা মারামারিতে পরিণত হয়। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাফসান আলম অভিযোগ করেন যে, পুরো ম্যাচজুড়েই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক এবং তারা গালিগালাজ করছিলেন। তাঁর দাবি, জয়ের পর তারা স্বাভাবিকভাবে আনন্দ করছিল, কিন্তু তখন প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক তাদের এক খেলোয়াড়কে আক্রমণ করেন। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে আঘাত করায় তাদের ডিফেন্ডার জিমের মাথা ফেটে যায়, যাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কেন্দ্রে নেওয়া হয়। রাফসান এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান জামান ভিন্ন দাবি করেন। তাঁর মতে, পেনাল্টি শুটআউটের সময় গ্যালারি থেকে স্লেজিং করা হচ্ছিল এবং জয়ী হওয়ার পর ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের গোলরক্ষককে ইট দিয়ে আঘাত করে। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড়রা তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন, যার ফলে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে তাঁদের পক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়ও আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা বেগম (টুকটুকি) জানান, মারামারি শুরু হওয়ার পর তাঁরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাকি খেলাগুলো স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এই ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলা হয়েছে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সাথে যৌথ আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবেন প্রশাসন।




