কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই নতুন এক অর্থায়ন পর্বের কথা বিবেচনা করছে, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মূল্যায়ন ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। খবরটি প্রকাশ করেছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান মাত্র কয়েকদিন আগে নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছর ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো উদ্যোগ নেই। এরই মধ্যে নতুন অর্থায়নের খবরটি বিনিয়োগ মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, অর্থায়নের এই নতুন রাউন্ডে অংশ নিতে আগ্রহী একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। তবে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি এখনও স্বাক্ষরিত হয়নি এবং আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যদি এই অর্থায়ন সফল হয়, তাহলে প্রযুক্তি খাতের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি অর্থায়ন হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই-এর এই উচ্চ মূল্যায়নের পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির অগ্রণী অবস্থান এবং বিশ্বজুড়ে এর পণ্য ও সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন এআই মডেল ও টুলসের বাণিজ্যিক সংস্করণ বাজারে এনেছে, যা আয়ের নতুন পথ খুলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই খাতে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। মাইক্রোসফট, গুগলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের এআই সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। এই প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে ওপেনএআই-এর জন্য অতিরিক্ত মূলধন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, এত বিশাল মূল্যায়নে কি প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মডেল টেকসই? এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের একাংশ মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি, তাই উচ্চ মূল্যায়ন যৌক্তিক। আবার অনেকে সতর্ক করে বলছেন, প্রযুক্তি খাতে অতিমূল্যায়নের ইতিহাস নতুন নয়, ফলে ঝুঁকিও কম নয়।
ওপেনএআই-এর এই সম্ভাব্য অর্থায়ন চূড়ান্ত হলে আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বাজার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মত দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে একাধিক বড় কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।



