যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টদের ওভাল অফিসের নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তন করা থেকে বিরত রাখা। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর পরিচিতি থাকা ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে এই দাপ্তরিক কক্ষটিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন, যার মধ্যে দেয়ালগুলোতে প্রচুর স্বর্ণালী রঙের কারুকাজ যুক্ত করা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি ওভাল অফিসকে একটি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভে পরিণত করছেন। ফলে কোনো 'নির্বোধ' ব্যক্তি তার পছন্দমতো আকৃতি দেওয়ার জন্য এই কক্ষটি ধ্বংস বা পরিবর্তন করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, ওভাল অফিস এবং হোয়াইট হাউস উভয়ই দেশের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক, তাই এর সুরক্ষা প্রয়োজন।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টরা হোয়াইট হাউসে কিছু পরিবর্তন করতে পারলেও বড় ধরনের প্রকল্পের জন্য কংগ্রেসের অনুমতির প্রয়োজন হয়। ট্রাম্পের নতুন আদেশের ফলে ওভাল অফিস এবং এর আশেপাশের কিছু কক্ষ এখন জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে গণ্য হবে। তবে এই আদেশটি প্রেসিডেন্টের সাজসজ্জা পরিবর্তন, আসবাবপত্র নির্বাচন বা সাধারণ নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বাধা দেবে না, যতক্ষণ না তা কক্ষটির মূল ঐতিহাসিক কাঠামো বা স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষতি করে। এই স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসকে, যাতে এর ঐতিহাসিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রেসিডেন্সির সাথে এর সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকে।

উল্লেখ্য যে, পুরো হোয়াইট হাউস ভবনটি আগেই 'ন্যাশনাল হিস্টোরিক ল্যান্ডমার্ক' হিসেবে স্বীকৃত, যা আকস্মিক পরিবর্তন রোধ করে। তবে ট্রাম্পের মতে, ওভাল অফিস একটি স্বতন্ত্র জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা হওয়ায় এর জন্য আলাদা বিশেষ স্বীকৃতি ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ১৯৩০-এর দশকের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের পরিকল্পনায় বর্তমান ওভাল অফিসের সৃষ্টি হয়েছিল।

তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিক সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ এবং 'কালচারাল হেরিটেজ পার্টনারস' আইন সংস্থার গ্রেগ ওয়ার্কহেইসার বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, আসবাবপত্র বা সাজসজ্জার পরিবর্তন সম্পূর্ণ প্রেসিডেন্টের ইচ্ছাধীন। তবে স্থায়ী শিল্পকর্ম বা স্থাপত্যের ক্ষতি না করা পর্যন্ত তারা যা খুশি করতে পারেন। ওয়ার্কহেইসার ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে 'ভণ্ডামি' বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, একদিকে ট্রাম্প ওভাল অফিসের সংরক্ষণের কথা বলছেন, যা আইনিভাবে খুব একটা কার্যকর নয়; অন্যদিকে তিনি ওয়াশিংটনের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণের আইনগুলোকে উপেক্ষা করছেন।

ওয়ার্কহেইসার আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার সংস্কার, শহরে নতুন বিজয়ী তোরণ নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ের গ্রানাইট বহির্ভাগ রঙ করার মতো কাজ করছেন, যা ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী। তার প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পগুলোর দুটি বন্ধ করতে মামলা দায়ের করেছে।

এর আগে অক্টোবরে 'টাইম' ম্যাগাজিনের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ওভাল অফিসটি ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তার বিরোধিতা করে একে একটি 'বিশেষ স্থান' হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার সময় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই নতুন সাজসজ্জার সমালোচনা করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ট্রাম্পের স্বর্ণালী কারুকাজ করা কক্ষটিকে বিদ্রূপ করে বলেছিলেন, এটি দেখতে যেন 'সদ্দাম হোসেনের খোলা চিজকেক ফ্যাক্টরি'র মতো।