নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় গতকাল রাতে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুখ ঢেকে রাখা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এই ঘটনায় স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ মোট তিনজন ব্যক্তি ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুখোশ পরিহিত ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী বাজারের পূর্ব দিকের গলি দিয়ে প্রবেশ করে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর প্রধান সড়কে উঠে আসে। সেখানে তারা প্রথমে কয়েকটি ককটেল ফাটায়, যা বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এরপর তারা অবিরাম গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলির আঘাতে স্থানীয় শামসুন্নাহার উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাজিবুজ্জামান (৫৬), দোকানের কর্মচারী মো. সাকিব (১৭) এবং মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (১৮) আহত হন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ছররা গুলি ও স্প্লিন্টারের আঘাত লেগেছে।
আহত শিক্ষকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর শ্যালক মো. সুমন জানান, রাজিবুজ্জামানের পিঠ, হাত ও বুকে কয়েকটি ছররা গুলি লেগেছে। অবস্থার তীব্রতা কম থাকায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি; বরং বাড়িতেই রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সাকিব ও নাজিমকে বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজিব উদ্দিন চৌধুরী জানান, গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে দুজনকে ছররা গুলিতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, দুর্বৃত্তরা তাঁর দোকানের সামনেও দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। হামলাকারীদের প্রত্যেকেই মুখোশ পরা ছিল। গুলিবর্ষণ শেষ করে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এদিকে, বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, ছররা গুলি ও স্প্লিন্টারের আঘাতে তিনজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ বর্তমানে চলমান। আজ আহতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। অভিযোগ দায়ের হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




