ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটাভুটির মাত্র এক সপ্তাহ আগে দেশজুড়ে অনলাইন বাজি এবং ক্যাসিনোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ৮০ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপ্রধান শুক্রবার একটি অস্থায়ী আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।

ব্রাজিলের বর্তমান আইন অনুযায়ী স্লট মেশিন বা প্রথাগত ক্যাসিনোর অধিকাংশ কার্যক্রম অবৈধ হলেও ২০১৮ সালে অনলাইন বাজির বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে এই খাতটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করলেও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, অনলাইন জুয়ার কারণে বহু পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আসক্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক মনে করে লুলা এই শিল্পকে একটি ‘ক্যান্সার’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি এক ঘোষণায় স্পষ্টভাবে জানান, এই ‘টিউমার’ উপড়ে ফেলা প্রয়োজন, অন্যথায় এটি পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে লুলা উল্লেখ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমেরের সময়ে অনলাইন বাজি বৈধ করা হলেও বলসোনারোর শাসনামলে চরম শিথিলতার কারণে এটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের জন্য কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা বা বিধিনিষেধ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। লুলা আরও বলেন, অনলাইন বাজি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ পরিবারের আয় ও জীবন ধ্বংস করে মুনাফা লুটতে পারবে না। তিনি জানান, জুয়ার নেশায় সর্বস্বান্ত হওয়া অসংখ্য পরিবারের করুণ কাহিনী তাঁর কানে পৌঁছেছে।

কেবল নিষেধাজ্ঞা জারি করেই থেমে থাকেনি ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট; নির্দিষ্ট হারের বাজি বা ফিক্সড-অডস বেটিং সংক্রান্ত অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে তিনি পৃথক একটি বিলেও স্বাক্ষর করেছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও তিনি এই খাতের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, অনলাইন জুয়া কেবল মানুষের আসক্তিকে মুনাফায় রূপান্তর করার একটি মাধ্যম।

তবে প্রেসিডেন্টের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর ছেলে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো। রিও ডি জেনিরোতে এক নির্বাচনী প্রচার সভায় তিনি লুলার এই সিদ্ধান্তকে ‘ভণ্ডামি, জনতুষ্টিবাদী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার লড়াইয়ে লুলা ও ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

লুলার জারি করা এই অস্থায়ী আদেশটি কার্যকর রাখতে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে ব্রাজিলের কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। অ্যাটলাস ও ব্লুমবার্গের একটি সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ব্রাজিলের প্রায় ৫৯.৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইন্টারনেটে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করার এই পদক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন।